Our delivery time 0-4 days anywhere in Bangladesh
0 Cart
Added to Cart
    You have items in your cart
    You have 1 item in your cart
      Total

      চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের ইতিকথা

      চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্যের ইতিকথা | fingla.com

      লেদার বা চামড়া আমাদের নিত্যদিনের ব্যবহারের একটি উপকরণ। আমাদের নিত্য ব্যবহার্য জিনিসগুলোর মধ্যে অনেককিছুই থাকে যা লেদারের তৈরি। যেমন, স্কুল ব্যাগ, অফিস ব্যাগ, ভ্যানেটি ব্যাগ, পার্স ব্যাগ, বেল্ট, হাতঘড়ি, মানিব্যাগ, জুতা, জ্যাকেটসহ আরও অনেককিছু। মূল্যবান এ লেদার সম্পর্কে আজ জানব অনেক অজানা তথ্য।
      🕹️লেদার কী?
      লেদার (Leather) একটি ইংরেজি শব্দ। এর বাংলা অর্থ চামড়া, যা আমরা সবাই মোটামুটি জানি। চামড়া শব্দটি বাংলা হলেও আমরা কিন্তু লেদার শব্দটি ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। তাই চামড়ার চেয়েও লেদার শব্দটি সমধিক পরিচিত ও প্রচলিত। তবে একটি মজার ব্যাপার হলো লেদার শব্দটি মানুষের চামড়া বুঝাতে ব্যবহৃত হয় না। মানুষের চামড়া নির্দেশ করতে স্কিন বা ডার্ম শব্দটি ব্যবহার করা হয়। শুধুমাত্র পশুর চামড়ার ক্ষেত্রেই লেদার শব্দটি ব্যবহারর করা হয়। এবং শুধু পশুর চামড়া বা লেদার থেকেই বিভিন্ন পণ্য উৎপাদিত হয়; মানুষের চামড়া দিয়ে নয়।
      🕹️লেদারের ব্যবহার কখন শুরু হয়?
      মানুষ আদিমকাল থেকেই লেদারের ব্যবহার আয়ত্ব করে নিয়েছে। মানুষ যে যুগে পশু শিকার করত এবং সেগুলোর মাংস ভক্ষণ করত তখন তাদের কাছে উচ্ছিষ্ট হিসেবে নাড়িভুঁড়ির পাশাপাশি থেকে যেত পশুর চামড়া। প্রথম প্রথম চামড়ার ব্যবহার সম্পর্কে না জানার কারণে অন্যান্য উচ্ছিষ্ট অংশের সাথে চামড়াও অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেওয়া হত। আর সেগুলো পচে নষ্ট হয়ে যেত। মানুষের জ্ঞানবুদ্ধির বিকাশের সাথে সাথে তারা জানতে পারল যে, পশুর চামড়া ফেলনা জিনিস নয়। তাই তারা আস্তে আস্তে এর ব্যবহার আয়ত্ব করে নিল। তারা পশুর চামড়া দিয়ে বিভিন্ন ব্যবহার্য জিনিস তৈরি করতে শুরু করল। যেমন- ব্যাগ, পানির পাত্র, জামা-কাপড় ইত্যাদি। মধ্যযুগে চামড়ার ব্যবহার ব্যাপকরকম বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ইতিহাস থেকে জানা যায় লেদার বা চামড়ার বহুবিধ ব্যবহারের কথা। মধ্যযুগের মানুষেরা চামড়া দিয়ে ব্যাগ, মশক (পানির পাত্র), জুতা, লেখার সামগ্রী (প্যাপিরাসের মতো), জামাসহ অনেককিছুই তৈরি করত এবং ব্যবহার করত। বলতে গেলে মধ্যযুগেই প্রথম চামড়ার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়। এরপর আধুনিক যুগে এসে চামড়াশিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটে এবং মানুষ এর নানামুখী ব্যবহার শিখে। যা লেদার বা চামড়াকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়।
      🕹️কোন কোন পশুর চামড়া ব্যবহার উপযোগী?
      সাধারণত গরু, ছাগল, মহিষ, ভেড়া, দুম্বা, উট এ জাতীয় পশু থেকে আমরা চামড়া পেয়ে থাকি। যেহেতু বাংলাদেশে দুম্বা বা উট তেমন একটা পাওয়া যায় না। তাই এ দেশে চামড়ার জন্য শুধু গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে এর মধ্যে আমরা সবচেয়ে বেশি চামড়া পাই শুধুমাত্র গরু থেকে। বাংলাদেশের চামড়াশিল্পের ৭৫-৮০ শতাংশ চামড়াই আসে গরু থেকে।
      🕹️লেদার ব্যবহারে লাভ কী?
      লেদার বা চামড়া একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি তৈরি করা সম্ভব নয়। কারণ, শুধুমাত্র পশু থেকেই এর কাঁচামাল পাওয়া যায়। লেদার বা চামড়ার ব্যবহারে অনেক লাভ। যেমন দেশের লাভ, তেমনি ব্যক্তি হিসেবে একজন ব্যবহারকারীরও লাভ। এর বেশকয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম কারণটি হলো, লেদার মূলত একটি দীর্ঘস্থায়ী বস্তু। যা দিয়ে তৈরি পণ্য অনায়াসে বহুদিন ধরে ব্যবহার করা সম্ভব। বাংলাদেশের মানুষ বাজারের পিইউ লেদার বা আর্টিফিশিয়াল লেদারে বেশি অভ্যস্থ হয়ে গেছে। অরিজিনাল লেদার থেকে বেশি চাকচিক্যপূর্ণ ও নানা রঙের, বর্ণের পাওয়া যায় বলে মানুষ তাতে বেশি আকৃষ্ট। তাছাড়া অরিজিনাল লেদার থেকে সেগুলোর দামও অনেকটা কম থাকে। তবে দুঃখের কথা হলো, এ পিইউ বা আর্টিফিশিয়াল লেদার বেশি টেকসই হয় না। অল্পতেই ছিঁড়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি এটি দেশেও তৈরি হয় না। বাইরে থেকে আমদানি করা হয় বলে বলে দেশের বহু টাকা বাইরে চলে যায়। অথচ আমরা চাইলেই অরিজিনাল লেদার ব্যবহার করতে পারি। সেটার জন্য শুধুই আমাদের সুদৃষ্টির প্রয়োজন। আমরা যদি আমাদের চামড়াশিল্পের যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে পারি, চামড়াজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারি তবেই আমাদের চামড়াশিল্প এগিয়ে যাবে বহুদূর। চামড়াজাত পণ্য রপ্তানী করে দেশ অর্জন করতে পারবে বৈদেশিক মুদ্রা। নিজে চামড়াজাত পণ্য ব্যবহার করুন, অন্যকে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করুন। চামড়াশিল্পকে বাঁচাতে এবং দেশের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখতে আপনার, আমার, সবার কেবলই প্রয়োজন একটু সুদৃষ্টির।
      লেখক: তুফান মাজহার খান
      ©লেখাটি ফিংলা ডট কম কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত। অনুমতি ব্যতিরেকে কপি করা নিষেধ।